--দিদি মা ভিতরে আসলাম কিন্তু?---আরে আদিল দাদু ভাই এসো এসো।ভিতরে এসেই চোখে-চোখ পরে আদিল-আলফার। দুজনের চোখই কপালে,, আলফার তো আদিলকে এখানে দেখে খাবার গলায় আটকে গেল। দিদিমাঃ --- পানি খা। কত বার বলি খাবার সময় এমন তাড়াহুড়ো করে খাস না কিন্তু কে শোনে কার কথা?আর এদিকে আদিলও কম অবাক হয়নি, আলফাকে এখানে দেখে ।-দিদিমাঃ "আলফা এ হল আদিল আমাদের বাড়িওয়ালার ছেলে। খুবই ভাল একটা ছেলে।" আলফা মনে মনে বলে,"কেমন ভালো ছেলে আমি জানি!"---"আর আদিল এ হল আলফা আমার নাতনি, কাল থেকে ও তোমার কলেজেই পরবে। আর শোনো দাদুভাই আজ থেকে আলফার সব দ্বায়িত্ব আমি তোমাকে দিলাম দাদু ভাই। আদিল টেবিলে রাখা একটা আপেল খেতে খেতে একটু হেসে বলল------"দিদিমা তার আগে বলো তোমার নাতনি কি তোমার মতো? i mean তোমার মতো নম্র,ভদ্র,শান্ত,?"আদিল আলফার দিকে তাকিয়ে একটা ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে আবার বলল,,,,,," দিদিমা তোমার নাতনি কে দেখে তো বেশ নম্র, ভদ্রই মনে হচ্ছে ।"..আলফা আদিলের কথা শুনে মনে মনে ভাবছে,,"কি!! আমাকে Indirectly অপমান করা হচ্ছে তাই না?? আপনার তো আমি বারোটা বাজিয়েই ছাড়বো নয়তো আমার নামও আলফা না। হুম । মিঃ আবুল তোমাকে তো আমি দেখে নেবো।"°°একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দিদিমা বললো,,,, "আসলে দাদু ভাই আমার নাতনিটা একটু দস্যি কিন্তু মনটা অনেক ভালো। দাদু ভাই তোমাকেই ওকে সৌজন্যতা , ভদ্রতা শেখাতে হবে। আর দাদু ভাই আমাকে না বলো না । তোমার উপর আমার অনেক আস্থা।" আদিল কিছুটা ভয়মাখা মুখে হাসির বৃথা চেষ্টা করে বলে,,,,---ঠিক আছে দিদিমা আমি তোমার নাতনিকে মানুষ করার দায়িত্ব নিলাম ।--- এই যে, মিঃ আবুল আমি কি পশু-পাখি নাকি, হুমমমম??---চুপ করনা দিদিভাই। আমরা তো কেউ তোর খারাপ চাই না,তাই না। ---ঠিকই বলছো দিদিমা । আর এর জন্য যদি তোমার নাতনি কে আমি একটু আধটু মার-টার দেই তাতে কিন্তু তুমি আবার মাইন্ড করো না ।আলফা মনে মনে বলছে,,,, "মিঃ আবুল আমাকে তো চেনোনি, একই বাড়িতে যখন আছি চিনিয়ে দেবো। আর আমাকে মারতে আসলে তোকেই মেরে এক্কেবারে আলুভর্তা বানিয়ে দেবো। হেসে হেসে দিদিমা বললো,,, "আমি জানি দাদু ভাই তুমি কি পারো আর কি পারো না।" এই বলে আদি আর দিদিমা দুইজনেই হেসে দিল ।°°--- আচ্ছা দিদিমা আমি এখন আসি। --- আচ্ছা দাদুভাই। আদিল যেতে যেতে আলফার দিকে তাকালো, কিন্তু আলফার ডেভিল মার্কা লুক দেখে ভয়ে আরো তাড়াতাড়ি চলে গেলো। --- এটা কী হলো দিদিমা, ঐ আবুলটার সামনে আমাকে এভাবে বলতে পারলা। দাদীমা হেসে হেসে বলল,,, "দিদিভাই রাগ করছিস কেনো, আর আদিল দাদুভাই তোর মতোই আমার নাতি।" --- ওওও তাই তো বলি, দিদিমা আমাকে ছাড়া কীভাবে থাকে...--- আর শোন দিদিভাই আদিল দাদুভাই এর বড় বোন কিন্তু তোর কলেজের গণিত টিচার, একটু রাগী কিন্তু অনেক ভালো। তোর জন্য অনেক কষ্ট করেছে সে, তাই এই মাঝ পথে কলেজে ভর্তি হতে পরলি। কিছুদিন পর তোদের পরিক্ষা যা যা বুঝিস না বুঝে নিস,, একই বাসায় যখন আছি তোকে কোথাও যেতেও হবে না। ,,দিদিমার কথা শুনে যেন আলফা যেনো আঁতকে গেলো। মনে মনে সে ভাবছে "কীহহহহহ্ আবুলটার বোনও আছে, এ আবার আমার গণিত টিচার। এ কোথায় আসলাম আমি,,, গণিততততততততত। ---- কী বিরবির করছিস, যা বললাম মাথায় আছে তো। এখন থেকে আর দস্যিপনা করিস না। ---- হুম!! !!এদিকে আদিল ভাবছে, "ইয়া আল্লাহ্, এই ডেভিল মার্কা মেয়েটার থেকে বাঁচতে চাইলাম। আপনি তো তাকে আমাদের বাড়িতেই আনলেন, দিদিমা বললেন তার নাতনিকে মানুষ করতে,,, কিন্তু এই সাংঘাতিক মেয়েকে মানুষ করতে গেলে ১০০% আমাকেই অমানুষ বানিয়ে ছাড়বে।ইয়া আল্লাহ আমাকে বাঁচান। !!আদিল তার আপার রুমে গিয়ে দেখে সে নেই। তাই মা কে ডাকলো,,,,---- মাআআআআআ ---- কী হয়েছে কী... ডাকছিস কেনো?---- আপা কোথায়? ---- কাল তো শুক্রবার কলেজ নেই, তাই তোর আন্টির বাসায় গিয়েছে। প্রায় কান্না করে দিবে এমন শ্বরে আদিল বলল, "আপা আমাকে ছাড়া কীভাবে চলে গেলো"। --- আরে পাগল কাঁদিস না, কাল বিকেলেই চলে আসবে। আর তুই তো আমার জন্য একটুও কঁদিস না। আর আপা নেই শুনতেই কেঁদে দিলি। এত আপা আপা করিস কেনোরে, আমার তো হিংসে হয়।!!হ্যাঁ, আদিলের দুনিয়া বলতে তার আপা ফারহা। ফারহা সব সময় আদিলকে শাসন করে, বকা দেয়। তারপরও ফারহা আপা বলতে সে অঙ্গান।,,........