দিনটি ছিল মেঘাচ্ছন্ন, সেদিন দুপুর বারোটার পর পরিনীতা একটি বিশেষ কাজে বাড়ির বাহিরে বের হয়, তখনই পরিনীতার সাথে দেখা হয় রাফি নামের একটি ছেলের।
রাফি ছেলেটার বয়স নয়, সেও দেখতে অনেক সুন্দর, একটা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান রাফি। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান রাফি। রাফি ছেলেটা অনেক চঞ্চল, সারাক্ষণ খেলাধুলা করাই রাফির কাজ, রাফি কখনো বাসায় থাকে না সে হয়তো কখনো মাঠে না হয় তো কখনো অন্য কোথাও। রাফি ও পরিনীতার মতো বড়দের সম্মান করে। রাফির বাবা একজন চাকরিজীবী মা ও একজন চাকরিজীবী। তাই রাফি সারাক্ষণ তার খালার বাসায় থাকে।
প্রথমত পরিনীতা রাফির সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে রাফি আর পরিনীতার মধ্যে একটা যোগাযোগ তৈরি হয়, রাফি এবং পরিনীতা অত্যন্ত ভালো বন্ধু হয়ে যায়। রাফি কোন কিছু করলে সেটা তৎক্ষণাৎ পরিণতাকে জানায় এবং পরিনীতা কিছু করলে তা ততক্ষণাৎ রাফিকে জানায়, রাফি এবং পরিনীতার মধ্যে তৈরি হয় এক দীর্ঘ সম্পর্ক, রাফি এবং পরিণীতা ধীরে ধীরে দৃঢ় বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। রাফি এবং পরিনীতার মধ্যে যতই ঝগড়া লাগুক না কেন তারা নিজেরাই তার সমাধান করে ফেলে।
এখন পরিনীতা এর বয়স ১০, এবং রাফি এর বয়স ১১। তারা দুইজন ছিল অনেক চঞ্চল বন্ধু। সব সময় তারা একে অপরের খোঁজ নিতো। একজনকে ছাড়া আর একজন প্রায়ই ছিল অকেজো। রাফির কাজগুলো পরিনীতা করে দিত। এবং মাঝে মাঝে পরিনীতার কাজগুলো রাফি করে দিত।
রাফি এবং পরিনীতার পরিবারে হঠাৎ একদিন নেমে আসে দারিদ্র্যের ছোঁয়া। এই দারিদ্র্যের ছোঁয়ায় আলাদা হয়ে যায় রাফি এবং পরিনীতা, পরিনীতারা থেকে যায় তাদের সেই ছোট্ট শহরে। এবং রাফি চলে যায় রাজধানীতে
আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করে তাদের দূরত্ব।