Untitled

1402 Words
মন্ত্রী মসাই নিজস্ব বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজস্ব হেলিপ্যাডে গিয়ে কপ্টারে চেপে দিল্লি তে মিটিং এ জন্য উড়াল দিলেন, মন্ত্রী মাসাই এর নাম দুর্গেস্বর চৌধুরী ,বয়স মাত্র 38, উচ্চতা প্রায় 6 feet, পরিষ্কার গায়ের রং সুদশন সুপুরুষ যাকে বলা যায় slim perfect body কপ্টার কিছু উপরে যেতেই মন্ত্রী মাসাই জানালা দিয়ে নিচের ছবির মত দৃশ্য দেখতে পেলেন তার বাড়ির ছাদেরপুলে দুটি পদ্ম ফুল জলের মধ্যে খেলা করছে একটি তার প্রান অপরটি হৃদয়, এই দুই নারী র মধ্যে একজনের বিন্দু মাত্র ক্ষতি মানতেই পারবেন না, তাই এই দুই নারী কে সবার কাছে থেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন,নিচে 14বছরের মেয়ে পাসের নারী টিকে বললো,মামণি আজ কি করবে মামণি বললো চলো স্নান সেরে রেডি হও, (এখন একটুখানি মন্ত্রী মাসাই এর বাড়ির পরিবেশ সংক্রান্ত বলা যায়)ছয়তলার বাড়ি নিচেরতলার একদিকে অফিস অফিসের কেউ বাড়ি র মধ্যে না আসে তার ব্যবস্থা করা অন্য দিকে বাগান, বাগানে যেমন ফুল ও ফল গাছের আযজন তেমনি চারিদিকে গাড়এরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে একদমই দুর্ভেদ্য দুর্গ ,কেউ সহজে প্রবেশ করতে পারবে না বিনা অনুমতিতে, গাড়ির গেরেজ ওকিছুপোস্য, তাদের দেখে রাখার জন্য লোকজন থাকার ব্যবস্থা, প্রথম তলায় রান্না ঘর খাওয়া দাওয়া ঘর কাজের লোকজন থাকার ব্যবস্থা, বড় বসারঘর, দুই তলায় শোবার ঘরের ব্যবস্থা তিন তলায় ঘরের মানুষ তাদের ব্যবস্থা, চারতলার পুরোটা ফাঁকা এই পযন্ত লিফ্ট ও সিড়িব্যবহার করা ব্যবস্থা আছে এই তলাটি কুকুরদেরজন্য ,আটটি কুকুরআছে যাদের দেখাশুনো যে করে তার বয়স আনুমানিক ষাটের ঘরে দেখতে লম্বায় সাড়ে পাঁচ কি ছয় ফুট গায়ের রং কালো, মাথার চুল পুরো সাদা কাছাপেড়ে ধুতি আর ফতুয়া জামা কুঁজো হয়ে হেঁটে চলে,দেখতে মনে হয় খুব দুর্বল, সব কিছু আস্তে আস্তে কাজকর্ম করে, এবং এই এক একটি কুকুর হিংস্রতায় বাঘের চাইতে কম নয়, এই তলে একটি ছোট ছাদ আছে, ছাদে লোহার রড দিয়ে মজবুত গ্রিল করা হয়েছে দুর থেকে কুকুরের ডাক শোনা ও দেখা যাবে, পাঁচ ও ছয় তলায় যাবার রাস্তা কেউ দেখতে পাবে না, এই বার পরিবারের সদস্যদের পরিচিত করা যায় শশাঙ্ক শেখর চৌধুরী তার দুই পুএ ও এক কন্যা ,( স্ত্রী মৃত্যুর পর রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন) বড় পুএ বিশ্বম্ভর চৌধুরী ও ছোট পুএ রাজেস্বর চৌধুরী, কন্যা রাজলক্ষ্মী তার ম্মামি তারেক নাথ রায় (তাদের দুই পুএ তমাল রায় ও তাঁরানাথ রায়) বিশ্বম্ভর চৌধুরীর এক পুএ (বিশ্বায়ন চৌধুরী, )ও দুই কন্যা (বনশ্রী,ও বীণা ) রাজেস্বর চৌধুরীর একটি পুএ দুর্গেস্বর চৌধুরী, বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী,সকলেই বিবাহিত স্ত্রী সন্তান নিযে ভরা সংসার ,রাজনীতি পরিবার, সদস্যরা সকলেই কম বেশি জড়িত রাজনীতিতে, বিশেষ করে ছেলেরা,আর যেখানে রাজনীতি সেখানেই দন্দ থাকবে কিন্তু শশাঙ্ক শেখর চৌধুরী কড়া হাতে সুদক্ষ তার সাথে পরিবারে শাস্বন নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, সব ছেলে মেয়ে দের উচ্চ শিক্ষিত করেছেন সব সময় বিচার বিবেচনা করে পরামর্শ দিয়েছেন, শশাঙ্ক শেখর চৌধুরী নাতি দুর্গেস্বর চৌধুরী রাজনীতিতে দাদুকে ছাড়িয়েছে তাইত কম বয়সেই মন্ত্রী হয়েছেন পনেরো বছর একইভাবে আসনটি ধরে রাখতে পেরেছেন , আর পরমকৃপামযের দয়ায় রাজ্যের উন্নতি দেখার মতোই তবে রাজনীতি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করলেও পরিবারকে সামলাতে ঠিক করে পারে নি,তাই জনগণের কাছে পরিবারের সকল সদস্যের চেনাজানা থাকলেও মন্ত্রী মাসাই এর স্ত্রী কন্যা র খবর কেউ জানে না এমনকি তার পরিবারের সদস্যরা সকলেই কম বেশি জানে এই বাড়ির পাঁচ ও ছয় তলায় তাঁরা আছে কিন্তু তাদের সাথে যোগাযোগ কম, শুধু কিছু কিছু অনুষ্ঠানে সবাই এক ঝলকের দেখা পাই , কোথা থেকে বের হয়ে আসে আবার কোথাই অদৃশ্য হয়ে যায়, দুর সম্পর্কের আত্মীয় স্বজন যারা,তাঁরা রাজ্যের অন্য জনগণের মতোই, ভাষাভাষা জ্ঞান, কেউ সহজে দেখতে পাই নি, ফটো তোলা অসম্ভব, শশাঙ্ক শেখর চৌধুরী কড়া ভাষায় পরিবারের সদস্যদের কাছে বলেছেন যে কোনো রকম আলোচনা তাদের নিয়ে করা যাবে না এই নিয়ে আলোচনা করলেও পরিবারকে শাস্তি র ব্যবস্থা করে রেখেছে, মধ্য নদীতে, পরিবেশ অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে কিছু ক্ষণ আগেই মধ্য দুপুরে প্রকৃতি কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব চালিয়েছে ,এই সন্ধ্যায় মনে হয় খুব রাত্রি হয়ে গেছে একটি ছোট লঞ্জনৌকা খুব সাবধানে উত্তাল নদীর মধ্যে চলেছে, লঞ্জনৌকাটি সল্প আলোই আলোকিত ,এইঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে নৌকাড়ুবে একমানব বাঁচার তাগিদে সাঁতরে লঞ্জনৌকাটিকে ধরার জন্য কাছাকাছি এসে লঞ্জচালকে চিত্কার করে ডাকতে থাকে, এত বাতাসের শব্দেও লঞ্জচালক শুনতে পাই সেই ড়াক তড়িঘড়ি লঞ্জনৌকার বাইরে এসে দেখে নদীতে ভাসমান জনকে ,দড়ি ফেলে হাতবাড়িযে তোলেন সেই মানুষটিকে ক্লান্ত হয়ে পড়েথাকে মানুষটি কম হলেও নদীর জল অনেকটাই পেটে গেছে, লঞ্জচালক তাড়াতাড়ি করে পেটে চাপিয়ে দিতে জল বের হল মুখে,মানুষটি চোখবন্ধ কোরে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করতে থাকে স্বাভাবিক হবার জন্য, আস্তে আস্তে চোখ জোড়া খোলে অনেক সময় জলের মধ্যে থাকার জন্য পৣথম ঝাপসা চোখে সামনে দিকে তাকিয়ে দেখে এক নারী বসে আছে আর তার কোলে ভয়জড়িত মুখে কোলে মাথা রেখে তার দিকে তাকিয়ে আছে একটি ছোট মেয়ে তার বড়ো বড়ো চোখে বিস্ময়ে ভরা ,আর যুবতীটি মেয়েটিকে দুই হাত দিয়ে আগলে রেখেছ,বোঝাই যাচ্ছে এরা মা ও মেয়ে ,আনদাজ করলো যুবতীর বয়স আনুমানিক ত্রিশের কাছে অসম্ভব সুন্দরী বিবাহিত , শাঁখা সিন্দুর পরিহিত কোন পরী, ছোট মেয়েটির বয়স আন্দাজ করা মুসকিল কারণ ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে আছে কিন্তু মুখশ্রী ফুটন্ত পদ্ম ফুল এই দুই নারীর মুখ দেখে মনে হল নারী দেখা সার্থক, পরমেশ্বর যেন মনের সুখে নিখুঁত ভাবে তৈরি করছেন, ভয় পেলেও যুবতীনারী হালকা হেসে জিজ্ঞাসা করলেন যুবককে ,ভালো লাগছে কিছু অসুবিধা হলে যেন বলে কারণ নারীটি 'cardiologist doctor' কিন্তু উঠে এসে ছেলেটিকে check up করলেন না, ছোট্ট মেয়েটিকে ধরেই বসে থাকলেন, ভয় করার কারণ ছেলেটির পোশাক দেখেই বোঝা যায় military man লম্বা চওড়া সুদশন সুপুরুষ য়ুবক, ছেলেটির গায়ের শক্তি বোঝাই যায়, যে কালবৈশাখী ঝড়ে উত্তাল ঢেউ যুক্ত নদীতে সাঁতার দিয়ে ভেসে তাদের লঞ্জনোকা টিকে ধরে উঠেছে আর সজ্ঞানে আছে, তাহলেই বলতেই হয় খুবই শক্তিশালী, যুবকটি সোজা হয়ে হাতে ভর দিয়ে উঠে তাদের দিকে বসে বলল ধন্যবাদ,আজকে আপনাদের জন্য জীবন নিয়ে বেঁচে গেলাম আমার নাম অভিষেক সেন,ভারতীয় সেনাবাহিনী তে আছি, দয়া করে ভয় পাবেন না, তাহলে আমার খারাপ লাগবে, (আসলেই লঞ্জনোকা পুরো ফাঁকা লঞ্জচালক আর এই দুই নারী ,)অভিষেক বললো কিছু মনে করবেন না একটা কথা বলি আসলে এই ঝড় বৃষ্টির মধ্যে নদীতে কোথাই যাবেন,নারীটি বললো আমার নাম ডক্টর নবনীতা চৌধুরী আমার মেয়ে নন্দিনী চৌধুরী মেয়ে আমার বজ্রপাতে ভয় পায়, আর নদীর ও পাড়ে যে Medical College or Hospitalআছে আমি doctorওখানের আমি এক জন heart surgeon,আর পাসের স্কুলে মেয়ে পড়াশোনা করে ,অভিষেক বললো মানে প্রতিদিন আপনারা এই নদীতে যাতায়াত করেন, নবনীতা ঘাড় হেলিয়ে সম্মতি জানায় নদীর পাড়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন বাঁধানো ঘাটে এক বয়স্ক মানুষ বসে আছে ভিষন অস্থির ও চিন্তিত অপেক্ষায় রত নদীর মধ্যে কিছু দেখতে ব্যস্ত, অনেক অপেক্ষার পর তার কাঙ্ক্ষিত জিনিস দেখতে পাই কিছু সময় ব্যয় করে তার হাতে থাকা charger light ওপর তুলে ধরে এদিক ওদিক করে ,অনেক সময় পরে আস্তে আস্তে লঞ্জনৌকা সামনে এসে দাঁড়ায় বয়স্ক মানুষটি এগিয়ে যায় লঞ্জচালক বলে কাকা এই হাওয়া বইছে আসার দরকার ছিল না, আমি তো আছি আস্তে করে মা মেয়ে নামলো ও তার পর অভিষেক, লঞ্জ ঘাটে বেঁধে লঞ্জচালক নামলো ততক্ষণে সবাই অনেক এগিয়ে গেছে, ঘাটের থেকে এগিয়ে ছোট্ট একটা দুইতলা বিশিষ্ট পাঁকা দালানের ঘর চারিদিকে বড় গাছ ও ফুলের বাগান নবনীতা বললো অভিষেককে আজকে আপনি এখানে থাকতেই পারেন নয়তো গাড়ি ডেকে যেতে পারেন আমরা খুবই ক্লান্ত রেস্ট নেবো আর দেখা হবেনা লঞ্জচালক অমিত ভাই আপনাকে সাহায্য করবে, ঠিক আছে শুভ রাত্রি, বলে একটি রুমে ঢুকে গেল মেয়ে কে নিয়ে, বৃদ্ধ লোকটি কাছাপেড়ে ধুতি আর ফতুয়া জামা পরে আছে কুঁজো হয়ে হেঁটে চলে মনে হয় বয়স খুব কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না, বৃদ্ধ লোকটি অমিত কে বললো মা বলেছেন উনি যা চান তাই তুমি ব্যবস্থা করে দেবে, তোমার স্ত্রী কে চা জল ও খাবারের ব্যবস্থা করতে বলো অতিথি আপ্যায়নে যেন তুটি না হয, যাও, অমিত অভিষেককেপাসের একটি ঘরে নিয়ে যায় অভিষেক ঘরে ঢুকে দেখতে পাই ঘরে একটি খাট বিছানা একটি আলমারি ও একটি চেয়ার টেবিল শেগুন কাঠের তৈরি, ছোট্ট র মধ্যে গোছানো বাগানো সুন্দর, অভিষেক দেখলো এই বাড়ির চারপাশে উঁচু করে পাঁচিলদিযে ঘেরা ঘাটটিসমেত অনেক ক্ষণ ধরেই কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে, ভাবতে ভাবতে গিয়ে চেয়ারে বসে আছে হঠৎ কুকুরটি দৌড়েএল অভিষেক চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় আর কুকুরটি তার পেটে দুই পা দিয়ে দাঁড়ায় চোখের পলক ফেলতেই ঘটনা ঘটে যায় অভিষেক তার দুই হাত তুলে পরে হাত বুলিয়ে দিতে থাকে কুকুরের তেজ ও ব্যবহার দেখে বুঝতে পারে কুকুরটি কোন সাধারণ ডোভারমেন্ট নয়, বিশেষ ট্রেনিং প্রাপ্ত কুকুর হিংস্রতায় একটা মানুষকে ছিড়ে টুকরো টুকরো করে দিতে পারে, বৃদ্ধ কাকা কুকুরটি গলায় চেন পরিযে নিয়ে গেল, বোঝা যায় যে কুকুরটি বৃদ্ধর কথায় চলে অমিত অভিষেককে একটি লুঙ্গি ও চাদর দিল পরার জন্য বললো অনেক সময় ধরে জলে ছিলেন জামা কাপড় ভেজা বদলে নিন,বাথরুম রুমে লাগুযা তাই কোন অসুবিধা হবে না অভিষেক কোন কথা বাড়ালেন না বদলে নিয়ে বিছানাতে উঠে বসলেন তার মধ্যে অমিত চা বিস্কুট আর কিছু খাবার নিয়ে হাজির অভিষেক বললো অমিত কে একটা ফোন হবে আর্মি কেম্প ফোন করব,অমিত নিজস্ব ফোন এগিয়ে দিল অভিষেক ফোন করে তার অবস্থার কথা সব জানালো, ফোন রেখে কিছু খাবার খেয়ে চা খেল তার পর সব কিছুর জন্য অমিতকে ধন্যবাদ জানাই একটুখানি বিছানাইশুতে চাই,অমিত দরজা ভিজিযে চলে যায়, অভিষেক অনুভব করল এই বাড়িটি খুবই নিস্তব্ধ যে কুকুরের ডাকে পুরো ঘর কাঁপছিল এখন চুপ চাপ শুধু কিছু ঝি ঝি পোকার শব্দ শুনতে পাই,
Free reading for new users
Scan code to download app
Facebookexpand_more
  • author-avatar
    Writer
  • chap_listContents
  • likeADD