Devil wife part 1
আদিলের সাথে আলফার প্রথম দেখাটা কোনো নাটক সিনেমার মতো ওতো রোমান্টিক ছিল না, যে প্রথম দেখাতেই কেউ কারো প্রেমে পড়ে যাবে। তবুও ওদের প্রথম দেখা হওয়াটা ছিল একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতায় পূর্ণ। ছিল কিছুটা তিক্ততা আর মিষ্টতার সংমিশ্রণ। তবে,,, প্রথম দেখায় কেউ কারো প্রেমে না পড়লেও, প্রথম দেখা হওয়ার দৃশ্যটা কেউ চাইলেও ভুলতে পারবে না। আসুন তবে দেখে নিই এখন, আদিল আর আলফার প্রথম দেখাটা কতোটা মধুর হয়,,,!!গল্পের আদিলকে কিছুটা কবিদের মতো মনে হয়, কারণ সে সবকিছুতেই কবিতা খোঁজে কিন্তু পায়না, তাল-গোল পাকিয়ে ফেলে। এছাড়াও তার আরেকটা গুণ আছে "শ্রেষ্ট ভীতু" যে উপাধিটা স্বয়ং তার মা দিয়েছেন। এখন আলফা কেমন হয় তা শুধু দেখার অপেক্ষায়। ..পড়ন্ত বিকেল, সন্ধ্যার অপেক্ষা,, জন-মানবহীন রাস্তাটা ফাঁকা...!!এর মাঝেও আছে, বিশৃঙ্খলা । .সেদিন গোধূলি বিকেলটাকে কবিতায় বন্দী করতে চেয়েছিল আদিল, কিন্তু পারেনি।।তার আগেই তিক্ত অভিজ্ঞতা। আদিল দেখতে পায়, কিছু দূরে একটা মেয়ে হেলমেট হাতে একটা ছেলেকে থাপ্পর মারে, আর ছেলেটা মাটিতে পরে যায়। এতে করে ছেলেটার সাথে থাকা বাকি ছেলেগুলোও রেগে যায়। আদিলের বুঝতে বাকি ছিলনা আর কী হয়েছে, আর কী হতে যাচ্ছে। আদিল আশেপাশে তাকিয়ে দেখে রাস্তায় আর কোনো লোক-জন নেই। তারমানে মেয়েটাকে এখন তাকেই বাঁচাতে হবে। আদিল দৌড়ে যায়,,,,, – এই যে ভাইয়ারা একটু থামেন থামেন প্লিজ। কী হয়েছে একটু বলবেন... ছেলেগুলোর মাঝে একজন বলে উঠল,, "এই যে, এই মেয়েটা (আলফাকে দেখিয়ে) হঠাৎ ই বাইকের সামনে এসে গেলো, কিছু হয়নি তারপরও এমন করছে।" তার কথা বলার ধরণ দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো ছেলেগুলো খুব রেগে আছে,,,আলফা: "চুপ,,, আর একটাও কথা বলবি না, কিছু হয়নি মানে। একে তো এই অবস্থায় বাইক চালাচ্ছিস, তার উপর কথা। মেয়ে দেখলেই তোদের মতো ছেলেদের বাইক ডান্স করে তাই না। বাইক চালাতে যানিস না তো রাস্তই আসিস কেনো।" আলফার কথার মাঝেও রাগী লুক প্রকাশ পাচ্ছে। আলফার কথা শুনে যে ছেলেগুলো একদমই চুপ হয়ে গেছে তা নয়। উল্টো ছেলেগুলো আরও রেগে যাচ্ছে, তার উপর চর খেয়েছে বলে কথা । এর মাঝে আদিল একবার আলফার দিকে তাকায়, " আলফা রাগে গজ গজ করছিলো, আর তার মুখ একদম লাল হয়ে আছে, এর মাঝেও অসম্ভব সুন্দরী লাগছে তাকে। "আদিল দেখে ছেলেগুলোর রাগও বাড়েই চলেছে। এর মধ্যে একজন বলে উঠে, "এই মেডামকে তুলে নে তো, আমাদের বাইক চালাতে শেখাবে, মনে হচ্ছে ধানি লংকা, ভালোই বাইক চালাতে শেখাতে পারবে, আরে তোদের কী বললাম তুলে নে মেডামকে"।(এবার দমক দিয়ে বলল।)এবার আলফাও একটু ভয় পেয়েছে। রাগের মাথায় তো সে থাপ্পর ও মেরেছে, তাই এবার সে চুপসে গেছ । আদিল বুঝতে পারে এরা ড্রিংস নিয়েছে। একজন এগিয়েও আসছিলো আলফার দিকে।। তখনই আদিল ছেলেটাকে আটকিয়ে বলে উঠে,,,"আরে ভাই থামেন থামেন , ধানি লংকা তো একটু হতেই হবে। ইনি কে জানেন,,?"একজন রেগে বলে উঠল, "আরে এত্তো পেচাল কিসের, তুলে নে। তারপর দেখছি কে"...একটু মুচকি হাসি দিয়ে আদিল বলে,, " আরে ভাই এতো তাড়া কিসের,, জানেন তো তাড়াহুড়ো শয়তানের কাজ,,তো শুনুন ইনি হলেন (আলফাকে দেখিয়ে) আমাদের এখানকার পুলিশ কমিশনারের মেয়ে, এবার বলুন, সে ধানি লংকা হবে না তো কে হবে।" আদিল ভালো করেই জানে এখানকার পুলিশ কমিশনারকে সবাই ভয় পায়। তাই আলফাকে বাঁচাতে তার এ মিথ্যে। আর আদিল যে ভঙ্গিতে বলেছে, ছেলেগুলো শোনা মাত্রই বাইক Start -করে পগারপার। আলফাও প্রাণ ভরে শ্বাস নেয়, কপালে ও বুকে হাত বুলিয়ে চুমু খায়,,,এবং চলে যেতে থাকে। পেছন থেকে আদিল আলফার হাত ধরে,, হাত ধরাতে আলফা পেছন ঘুরেই মারলো আদিলের মুখে একটি ঘুষি আর আদির রাস্তায় পড়ে গেল।আদিল তাকিয়ে দেখে ততক্ষণে ছেলেগুলোও চলে গেছে। তারমানে কেউ দেখেনি যে, একটা মেয়ে তাকে ঘুষি মেরেছে। ---কি ব্যাপার আমি আপনাকে বাঁচালাম, একটা ধন্যবাদ তো অন্তত আমার প্রাপ্য আর আপনি আমাকে মারলেন? (অবাক হয়ে)---বাঁচালাম মানে, আমি কি মরে যাচ্ছিলাম নাকি, হুমমমমমম। আর কি যেনো বলছিলেন আমার বাবা পুলিশ হুমমম,? মিথ্যে তো ভালোই বলতে জানেন।---ঘটনাটা যেনো আর বড় না হয়, তাই বলেছিলান,, আসলে এসব ছেলেদের সাথে এতো রাগ দেখাতে নেই, এতে নিজেরই ক্ষতি। দেখতেই তো পেয়েছেন ঘটনাটা কতোদূর এগিয়ে ছিলো। আর আপনি যে রাগী, কী না কী হয়ে যায়,, তার ভয়ে বলেছিলাম। ---ছেলেরাও এত্ত ভীতু জানতাম নাতো, আরে আমাকে এতোই বাঁচানোর শখ, তাহলে কেনো ছেলেগুলোর হাত, পা ভেঙ্গে দিলেন না.... ---আমি কোনো সাউথ মুভির হিরো নই। আর শুনুন একটা মেয়ে সাথে থাকলে, ছেলেদের ভয় পেতে শিখতে হয়, নিজের জন্য না হলেও সেই মেয়েটার জন্যে। যে কাজ কৌশলে হয়ে যায়, তাকে টেনে এতো বড় করার কী ধরকার।। ---বুঝছি মিস্টার, আর ঙ্গান দিতে হবে না। এখন মুড নেই অন্য সময় ধন্যবাদ দিয়ে দিবো যান। দুজন দুজনের মতো চলে যায়,,, আদি নিজের মনে মনেই ভাবছে-----"কি সাংঘাতিক মেয়ে রে বাবা!যার কপালে এমন বউ আছে তার লাইফ শেষ। ইয়া আল্লাহ্ আমাকে বাঁচাইয়েন।"আলফা: এমন আবুল মার্কা ছেলে,dheet just disgusting.. !!!---দাদী মা কিছু খেতে দাও। ভীষণ খিদে পেয়েছে । (আলফা)---নতুন শহর তেমন কিছুই চিনিস না তা কোথায় গিয়েছিলি তুই? ---এইতো এখানেই ছিলাম কোথাও যাইনি।(যা বাঁচান বেঁচেছি আজ আল্লাহ, বিরবির করে)---কী বিরবির করছিস..?---নানা কিছু না.…---দিদি ভাই আর দস্যিপনা করিস না । তোর বাবা কিন্তু খুব রেগে আছে, আজই এখানে রেখে গেলো তোকে । বলে গেলো তোকে নাকি কলেজ থেকে বের করে দিয়েছে আর সেও তোর আর কোন দ্বায়িত্ব নেবে না । দুদিন পর পর স্কুল পাল্টাতে হয়েছে তোকে, আর এখন কলেজ পাল্টাতে হয়। কী এমন করিস তুই যে বার বার TC দেয় তোকে। আর কিছুদিন পরতো কোনো কলেজেই পরতে পারবি না তুই। দিদি ভাই কাল থেকে দয়াকরে লক্ষি মেয়ের মতো এই নতুন কলেজে গিয়ে ভালো ভাবে থাকিস?..খাবার খেতে খেতে আলফা বলে, "হুম"। আসলে এতক্ষণ যা বলেছে হয়তো কিছুই তার মাথায় নেই। ---জানি তোকে কিছু বলাই সার। ---দিদি মা ভিতরে আসলাম কিন্তু?---আরে আদিল দাদু ভাই এসো এসো।ভিতরে এসেই চোখে-চোখ পরে আদিল-আলফার দুজনের চোখই কপালে