পরিনীতা
পৃথিবী এক বয়ে চলা নদীর ন্যায়, পৃথিবীর এক মানুষের মহাসমুদ্র। এই মানুষের মহাসমুদ্রের ভিতরেই রয়েছে কিছু ভালো মানুষ ,কিছু খারাপ মানুষ, কিছু ষড়যন্ত্রী। এই মানুষের মহাসমুদ্রেই বেড়ে উঠেছে পরিনীতা। পরিনীতা কোন সাধারণ মেয়ে নয় এবং কোন সাধারণ নাম নয়, যে কেউ চাইলে পরিনীতা হতে পারে না। অনেক আত্মত্যাগের পর যে নারী সফলতার দ্বার প্রাঙ্গণে পৌঁছেছে তাকেই বলে পরিনীতা। পৃথিবীতে রয়েছে এমন হাজারো পরিনীতা। হয়তো এই মানুষের মহাসমুদ্রে পরিনীতাদের আত্মত্যাগটাকে কেউ মনে রাখবেনা।
তবে আমার মত কিছু মানুষের মনে হাজারো বছর গেতে থাকবে পরিনীতা।
পরিনীতা মেয়েটার বয়স মাত্র ৭। পরিনীতা মেয়েটা দেখতে খুবই সুন্দর, চেহারাটা তার মায়ের মত, পরিনীতার জন্ম ও পরিনীতা বড় হয়েছে একটি শহরে,তারা মাত্র দুই বোন । দুই বোনের মধ্যে ছোট বোনের নাম পরিনীতা। বড় বোনের নাম নবনীতা। নবনীতার বিবাহ হইয়া গেছে। বর্তমান তাহার বাবা-মার একমাত্র চিন্তা পরিনীতা। পরিনীতার বাবা একজন চাকরিজীবী, তার মা একজন গৃহিণী। পরিনীতা তখন কোন স্কুলে পড়ে না। বাবা মা যেমন শাসন করেন, তেমনি আদর করেন পরিনীতাকে। তবে বাবা-মার কঠোর শাসনের, ছোটখাটো আদর গুলো হারিয়ে যায়।
পড়াশুনা করতে খুবই আগ্রহী ছিল পরিনীতা।
বাবা মাকে তেমন পছন্দ ছিল না পরিনীতার, এমনই আত্মত্যাগ করতে করতে পরিণীতা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছিল। নিজে থেকে বড় কিছু করতে চায় পরিনীতা।
সব সময় নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করত পরিনীতা, পরিনীতা শিক্ষা পায়নি নিজের ইচ্ছাকে মূল্যায়ন করার। পরিনীতা শিক্ষা পায়নি নিজে থেকে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার, পরিনীতা বড় হয়েছে একটি আবদ্ধ পরিবেশে। তাই বাহিরের জগতের সাথে পরিচিত নয় পরিনীতা।
পরিনীতা যখন আট বছর বয়সে পদার্পণ করে, তখনই পরিনীতা পরিচিত হয় একটি নতুন পরিবেশের সাথে, নতুন করে ভেসে খুঁজে পাই নতুন এক বন্ধু ,নতুন কিছু লোকজন। পরিনীতা সবার সাথে চলাফেরা করে। কাউকে কখনো ছোট করে কথাবার্তা বলে না। সবাইকে সম্মান করে চলা মেয়েটাই পরিনীতা।