Chapter 1: অসম্পূর্ণ বার্তা
জানালার বাইরে আকাশটা আজ সকাল থেকেই মেঘলা হয়ে আছে। ঘড়িতে তখন দুপুর গড়াতে চলল, কিন্তু বৃষ্টির কোনো লক্ষণ নেই। একধরনের গুমোট গরম আর মন খারাপ করা বাতাস চারপাশ ছেয়ে আছে।
মিম বারান্দার গ্রিল ধরে বাইরে তাকিয়ে ছিল। তার হাতের মোবাইল স্ক্রিনটা কিছুক্ষণ পর পরই নিভে যাচ্ছে, আবার সে আঙুলের ছোঁয়ায় আলো জ্বেলে তুলছে। স্ক্রিনে ভেসে থাকা চ্যাটবক্সের দিকে তাকালেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন খামচে উঠলো।
চ্যাটবক্সে খুব সাধারণ দুটো বাক্য লেখা:
"ভালো আছি। তুমি?" — সোহাগ লিখেছিল।
"আমিও ভালো আছি।" — মিম উত্তর দিয়েছিল।
ব্যাস, গল্পটা ঠিক সেখানেই থেমে গেল। দুজনের নীরবতা এত ভারী হয়ে উঠল যে, কেউ আর একটা শব্দও বাড়াতে পারল না।
অথচ মিমের ইচ্ছে করছিল স্ক্রিনটা চেপে ধরে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করতে—
“তুমি কি সত্যিই ভালো আছো সোহাগ? এতগুলো বছর আমাকে ছাড়া তোমার রাতগুলো কীভাবে কেটেছে? তুমি কি আমাকে এখনো আগের মতোই মনে রেখেছ, নাকি সময়ের স্রোতে আমি একটা ঝাপসা স্মৃতি হয়ে আছি মাত্র?”
কিন্তু বাস্তবতার দেয়ালটা এতই শক্ত যে চাইলেই সব কথা বলা যায় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষ অভিমান লুকাতে শেখে, ভালোবাসা লুকিয়ে হাসতে শেখে।
মিম ফোনটা হালকা করে পাশে টেবিলের ওপর রেখে দিল। চোখের কোণে জমা হওয়া একফোঁটা জ্বলজ্বলে পানি গাল দিয়ে গরিয়ে পরছিল। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, তার ঠোঁটের কোণে তখন আলতো এক চিলতে হাসি। এটি কোনো আনন্দের হাসি নয়, এটি প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির মাঝে আটকে থাকা এক বিষণ্নতার হাসি।
সে জানালার ওপারে তাকাতে তাকাতে মনে মনে বলল—
"সোহাগ, সত্যি বলতে তোমাকে আমি জীবনে পাইনি। জীবনের কঠিন হিসেব-নিকেশ আমাদের আলাদা করে দিয়েছে। কিন্তু তোমাকে যে ভালোবেসেছিলাম—একদম নিঃস্বার্থভাবে, খাঁটি মন দিয়ে—এই সত্যিটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে। তোমাকে পাওয়ার চেয়ে তোমার সেই স্মৃতিটা ধরে রাখা আমার কাছে অনেক বেশি দামী।"
মিম সেদিন খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিল—ভালোবাসার সবচেয়ে কষ্টের দিক হারানো নয়। কষ্টের দিক হলো, কখনো কখনো মানুষটাকে জীবন থেকে পুরোপুরি হারিয়ে ফেলার পরও তার প্রতি ভালোবাসাটা একটুও হারায় না। তা থেকে যায় চিরকাল, বুকের এক কোণে একদম জীবন্ত হয়ে।