মায়া

522 Words
ম্যাম লাশ টির পেটের বাচ্চা টা এখনো জিবীত আছে।বাচ্চাটা রেসপন্স করছে।দেখে মনে হচ্ছে এক্ষুণি ডেলিভারি হয়ে যাবে। বাচ্চাটা পোস্ট মর্টেম এর পরেও মরে নি ম্যাম। আলেয়ার কথা শুনে সংকিত তাসনিম। --Are you mad aliya?মৃত লাশের ডেড বডির বেবি কিভাবে রেসপন্স করে। আলিয়া বলে জ্বী ম্যাম লাশ টা নড়াচড়া করছে।আমার মনে হচ্ছে উনি জীবীত ম্যাম। --তুমি কি পাগল পোস্ট মর্টেম করা লাশের বডিতে তার সন্তান জীবীত থাকে কিভাবে।আমরা সব রকম পরীক্ষা করেই দেখেছি মা আর সন্তান দুজন ই মৃত। ঘড়িতে রাত তখন সাড়ে তিন টা হবে।লাশটার পায়ে একটা নম্বর ও বেঁধে দেওয়া হয়ে গিয়েছে। চারদিক ভীষণ শুনসান নিরবতা।কোথাও কেউ জেগে নেই।মাঝে মাঝে দু এক টা কুকুরের ডাক ভেষে আসছে বাইরে থেকে।গভীর রাতে শুধুই ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে আছে। জেগে আছে শুধু আলেয়া,তাসনিম,মৃদুল,আর আবরার। আলেয়া বলে ম্যাম আপনি নিজেই দেখুন এর পেট নড়াচড়া করছে।তাসনিম এগিয়ে এসে দেখে তেমন কিছুই না।এটা আলেয়ার নিছক ই ঘোর হবে।তাসনিম বলে আলেয়া সারাদিন লাশেদের সাথে থাকতে থাকতে তুমি পাগল হয়ে গিয়েছো। লাশের পায়ের সাথে বেঁধে দেওয়া নাম্বার টা বাতাসে খুলে পড়ে যাচ্ছে বার বার।তাসনিম এই নিয়ে ৪-৫ বার বেঁধে দিলো। আলিয়া মর্গের কেয়ার টেকার।লাশ পোস্ট মর্টেম এর জন্য রেডি করা। লাশের পায়ে নাম্বার বেঁধে দেওয়া এগুলা আলিয়ায় করে থাকে।তাসনিম অত্যান্ত ব্রিলিয়ান্ট একজন ডাক্তার।তাসনিমের বাবাও অনেক বড় একজন ডাক্তার।এই হসপিটালে চাকরি করতে এসে মৃদুল এর সাথে রিলেশন হয় তাসনিমের।তাসনিমের বাবা এ বিয়েতে রাজি নন। মেয়ের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে তার বোনের ছেলে আবরার এর সাথে বিয়ে দিয়ে দেন তাসনিমের।এই একই হসপিটালে চাকরি করছে তিনজন। আলিয়া আবার ও চিৎকার দিয়ে উঠলো ম্যাম স্যার কে ডাকুন না প্লিজ।এনার সিজার করুণ এক্ষুণি।এর বেবিটা বেঁচে আছে ম্যাম।দেখুন কিভাবে চিৎকার দিয়ে কাঁদছে।আলিয়া খেয়াল করে দেখে লাশ টি তার দিকে তাকিয়ে আছে।আলিয়া ভয়ে ছুটে গিয়ে পড়ে। তাসনিম এগিয়ে এসে দেখে মৃত মেয়েটির পেট নড়াচড়া করছে।তাসনিম ভয়ানক ভাবে চমকে যায়।এটা কিভাবে পসিবল।পয়জন খেয়ে একটা মেয়ে মারা গিয়েছে তার বেবি কিভাবে বেঁচে থাকতে পারে। তাসনিম তাকিয়ে দেখে মেয়েটি নিশ্চুপ ভাবে সুয়ে আছে।যেনো মরেই নি।মায়াবী দেখতে মেয়েটা।দেখে মনে হচ্ছে মেয়েটা কিছু বলবে।কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব সাত দিন আগে মারা যাওয়া একটা লাশ।পোস্ট মর্টেম ও করা হয়ে গিয়েছে।মেয়েটি সুইসাইড করে মারা গিয়েছে।পয়জন এ পেটের সন্তান টাও মারা গিয়েছে।এখন কিভাবে সম্ভব তার পেটের সন্তান বেঁচে থাকাটা। তাসনিম ডাক্তার মৃদুল কে সাথে সাথে ফোন দেন।মৃদুল একবার ও ফোন তুলছে না।অনেক্ষণ পরে ফোন তুলে বললো কি হয়েছে তাসনিম। তাসনিম বলে একটা ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে একটা লাশ রেসপন্স করছে।প্লিজ দ্রুত এসো। মৃদুল বলে এটা কোনো ভয়ানক ঘটনা হলো।আমরা অনেক সময় মৃত ভাবি কিন্তু আসলে ওরা মৃত না জীবীত ই থাকে।আমি একটা ক্রিটিকাল ডেলিভারি রুগি দেখছি।উনাকে না দেখে কিছুতেই যাওয়া সম্ভব নয়। তাসনিম বলে মৃদুল এত রাতে কোথা থেকে রুগি এসছে তোমার কাছে।মৃদুল কোনো কথা না বলে ফোন টা কেটে দিয়ে আধা ঘন্টা পরে তাসনিমের কাছে যায়।মর্গে তাসনিম আর আলিয়া লাশ টা নিয়ে বসে আছে।মৃদুল এগিয়ে আসতেই আলিয়া হাঁপিয়ে এসে পড়ে। আলিয়া মৃদুল কে বলে স্যার দেখুন না এই লাশ টা পোস্ট মর্টেম এর পরেও এর বেবি জীবীত আছে। মৃদুল বলে তোমরাও না।কমন সেন্স নেই তোমাদের।অনেক সময় মৃত মনে হয় এমন অনেক মানুষ জীবীত ই থাকে।মৃদুল এগিয়ে গিয়ে বলে উনি এখানে।উনার তো কাল সকালে ডেলিভারি হওয়ার কথা আমি বলেই দিয়েছি।উনি এতক্ষণ আমার রুমেই ছিলেন। আলিয়া বলে হোয়াট? উনি মারা গিয়েছেন আরো সাত দিন আগে। (রেসপন্স ভালো পেলে পরের পর্ব দিবো।)
Free reading for new users
Scan code to download app
Facebookexpand_more
  • author-avatar
    Writer
  • chap_listContents
  • likeADD