বেইমানী
ছেলেটা বেপারটা বোঝার চেষ্টা করল সে কিছু দিন তার আচার-আচারণ লক্ষ করল তার মনে সন্দেহের দানা তৈরি হলো তার মনে মনে মেয়েটার প্রতি ঘৃণা হতে শুরু করল। ছেলেটা ভাবলো আনি তাকে এতটা ভালোবাসলাম আর সে আমার সাথে এমন করছে এই ভেবে ছেলেটার মনে ঘৃণা হতে শুরু করল সে মনে মনে ঠিক করল তার জীবন সে রাখবে না।এই দিকে মেয়েটা তার এত পরিশ্রমের ভালোবাসা দেখে এবং তার বান্ধবীদের প্রেম দেখে বুঝল ছেলেটা তাকে সত্যিই ভালোবাসে ভীষণ ভালোবাসে তাই সে এখন মনে মনে ছেলেটাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলো এবং তাকে ভালোবাসতে শুরু করলো। মেয়েটা মনে মনে ঠিক করল সে বিয়ে করলে তাকেই করবে অন্য কাউকে না। মেয়েটা ভালোবাসলেও সেটা সে খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশ করতে চায়নি। সে নিজেকে বুঝতে চেয়েছে যে সে সত্যি সত্যিই ছেলেটাকে ভালোবেসে ফেলেছে কিনা তাই সে নিজেকে বুঝার চেষ্টা করল।এই দিকে ছেলেটা যেখানে ভেবেছিল সে আত্মহত্যা করবে সেখানে সে বন্ধুদের পরামর্শে মেয়েটার ক্ষতি করতে চাইলো। কিন্তু সে মনের কাছে বারবার প্রশ্ন করতে থাকল এমনটা কি করা ঠিক হবে আমি তো তাকে ভালোবাসি কিন্তু সে এর মধ্যে এতটাই ঘৃণা করে ফেলেছে যে মন বলছে সে আমাকে ঠকিছে সে আমার না তো কারোর না। একদিন ছেলেটা মেয়েটার সাথে দেখা করতে চাইলো। মেয়েটাও দেখা করতে চাইলো এবং সে মনে মনে ভাবল ঐদিন তার মনের সব কথা সে বলবে তাকে প্রপোজ করবে তাকে বলবে সেও তার মতো তাকে অনেক ভালোবাসে। তারা অনেক দূরে একটা ফাঁকা জায়গায় দেখা করল এবং মেয়েটা তার মনে কথা বলার আগেই ছেলেটা তার লোকজন নিয়ে মেয়েটার মুখ চেপে একটা গাড়িতে করে উঠিয়ে নিয়ে গেলে।সেখানে ছেলেটা লোকজন মেয়েটাকে অনেক অত্যচার করতে লাগলো তাকে তিন দিন খাবার দিল না মেয়েটা মৃত প্রায় হয়ে গেলে তিন দন পর ছেলেটা মেয়েটার সাথে দেখা করল এবং জানতে চাইলো সে তার সাথে কেন এমন করল মেয়েটার তার কথার জবাব দিগে পারছে না, কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।মেয়েটা কথা না বলায় ছেলেটা তার মুখ টিপে ধরল এবং জোরে জোরে চিৎকার করে কাঁদতে থাকলো। তখন মেয়েটা একটা আংটি বের করে তার হাতে দিল এবং দেওয়ালের কিছু লেখা দেখালো আঙ্গুলের ইশারায় যেখানে সে এর মধ্যে লিখেছে আমি তোমাকে প্রোপজ করতে এসেছিলাম তোমার ভালোবাসার কাছে আমার অভিনয় হেরে গেছে। ছেলেটা তার কথা বিশ্বাস কারণ সে তার আঙ্গুলের মাপের একটা আংটি নিয়ে এসেছিল। ছেলেটা ভাবলো সে এটা কি করলো মনে মনে নিজের প্রতি ঘৃণা হলো।এতক্ষণে মেয়েটা অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। ছেলেটা তার দিকে তাকিয়ে জোরে জোরে কাঁদতে লাগলো এবং তার লোকজন ডেকে মেয়েটাকে হাসপাতালে ভর্তি করলো কিছু দিন মেয়েটার চিকিৎসা হলো সুস্থ হয়ে তারা বাসায় ফিরলো।মেয়েটা তার বাসায় জানালো সে ছেলেটাকে বিয়ে করবে তার বাসার সবাই রাজি খুশি হয়ে তাদের অনেক ধুমধাম করে বিয়ে দিলো। তারা এখন সংসার করছে তবে মেয়েটার জীবনে নেমে এলো অন্ধকার মেয়েটার তার শ্বশুর বাড়িতে সব সময় একটা ঘরে বন্ধি হয়ে থাকতে হয়। সে সারা দিনে কখনোই বাইরে বের হতে পারে না।ছেলেটা তার চাহিদা মতো সব কিছু দেয় কিন্তু তার মনের সুখটা আর আগের মতো নেই। একটা ঘরে বন্ধ থাকতে থাকতে সে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন কিন্তু ছেলেটা মেয়েটার সমস্যাটা বুঝতে পারছে না। ছেলেটা এতদিন ব্যস্ত ছিল তারপাওয়ার জন্য আর এখন ব্যস্ত তার পরিবারকে খুশি করানোর জন্য।
মানুষের শারীরিক অসুস্থতার থেকে মানসিক অসুস্থতা বেশি দূর্বল করে দেয়। জীবনে সুখের থেকে যদি কষ্টের ভাগ বেশি হয় তাহলে কখনো আফসোস করো না কারণ যাদের আল্লাহ ভালোবাসেন তাদের কষ্ট দিয়ে পরিক্ষা করেন।মেয়েটার জীবনে নেমে এলো কষ্টের অন্ধকার তবুও সে আল্লাহ কে বিশ্বাস করতো যে একদিন তার কষ্টের দিন শেষ হবে। দিনের পর দিন সে ক্ষুধার কষ্ট পেলেও কখনো ছেলেটাকে বলতো না যে তার ক্ষুধা পেয়েছে। বরং ছেলেটা যখন তার কাছে জানতে চাইতো যে তার ক্ষুধা কষ্ট হয় কিনা তখন সে হাসি মুখে বলত 'না'।ভালোবাসা বোধ হয় এমনই। মেয়েটা চাই ছেলেটার সাথে সুখে থাকতে কিন্তু ছেলেটা তার পরিবারের কথা নাকি মেয়েটার কথা নাকি তার নিজের কথা কি জানি ভাবে হয়ত কোনো ডিপ্রেশনে থেকে ছেলেটা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না তবে জীবন তো আর এভাবে চলতে পারে না। মেয়েটা কি করবে নিজের ইচ্ছায় সে ছেলেটাকে বিয়ে করেছে না পারে ছেলেটাকে ছাড়া থাকতে না পারে তার সাথে এইভাবে থাকতে কি করবে সে বুঝে উঠতে পারে না। ছেলেটা মেয়েটাকে এর মধ্যে ভালোবাসত কম বেশি ভালোবাসা সব সময়ই ছিল। কিন্তু মেয়েটা দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছিল ছেলেটা সেটা বুঝতেই পারলো না। মেয়েটা মানসিক কষ্ট নিতে নিতে পাগল প্রায় এইদিকে ছেলেটাও ডিপ্রেশনে।মেয়েটা বার বার তাকে বুঝাতো চলো আমরা বাইরে থাকি একটু ভালো থাকি কিন্তু ছেলেটা মেয়েটার কোনো কথায় শুনতো না মেয়েটার মনে ছেলেটার প্রতি রাগ হতো মাঝে মাঝে কিন্তু রাগ অভিমানে থেকে তাদের ভালোবাসা ছিলবেশি তাই তাদের রাগ অভিমান কখনো দীর্ঘ স্থায়ী হতো না।তাদের পরিবারের সমস্যা ছিল ছেলেটার বাবা-মা সব সময় মেয়েটাকে তার পরিবার এবং তাকে নিয়ে বাজে কথা বলতো এটা মেয়েটার সহ্য হতো না তাই সে তাদের কাছে যেত না কোনো কাজও করতো না তার সে তাদের কাজ করত না বলে তাদের মেয়েটার উপর রাগ হতো ছেলেটার বাবা-মায়ের কথা তারা হাজার কটু কথা বললেও তাদের কাজ করতে হবে। কিন্তু মেয়েটা ছিল খুবই আত্মসম্মান রক্ষাকারী তাই কেউ তাকে বাজে কথা বললেও সে তর্ক করত না নিজের মতো সে থাকত আর কান্না করত। তবুও সে কখনোই কিছু বলতো না।
বেশি কিছুদিন যাবার পর মেয়েটার গর্ভে সন্তান এলো কিন্তু সেই সন্তান পৃথিবীর আলো দেখলো না। মেয়েটা চাইনি তার মতো তার সন্তানও কষ্ট পাক তাই সে সিদ্ধান্ত নিলো সে গর্ভপাত করবে। ছেলেটাও একই সিদ্ধান্ত নিলো কিন্তু কেনো নিলো জানি না।
তারপরও তারা সুখেই ছিল নিজেদের দিক দিয়ে কিন্তু পরিবারের দিক দিয়ে তারা অনেক ডিপ্রেশনে ছিল এভাবে তাদের জীবন চলতে চলতে একদিন পরিবারে অনেক বড় ঝামেলা হলো। মেয়েটাকে এবং তার পরিবারকে অনেক বাজে কথা বললো মেয়ে অনেক কষ্ট পেয়ে তাদের পরিবার ছেড়ে চলে আসলো এবং সে সে আর কখনোই ফিরে যাইনি এভাবে তাদের ভালোবাসার জীবন শেষে হলো। ছেলেটা কিছুই করতে পারলো না।।।